মতবিনিময়ের আড়ালে গণসংযোগ– আচরণবিধি উপেক্ষা করছেন প্রার্থীরা! 
চট্টগ্রাম–১৩ আসন

আনোয়ারা প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রকাশ্যেই লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান দুই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রতীক বরাদ্দের আগেই মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ -এর নামে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা।

বিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী প্রকাশ্যে গণসংযোগ, জনসভা বা নির্বাচনী তৎপরতা চালাতে পারবেন না। তবে বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম–১৩ আসনে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, পরিদর্শন ও ব্যক্তি পর্যায়ে ভোট প্রার্থনার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি, বক্তব্য প্রদান এবং নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এসব কর্মসূচি নামমাত্র মতবিনিময় হলেও কার্যত এগুলো সরাসরি গণসংযোগ। কোথাও কোথাও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি ভোটের হিসাব–নিকাশও করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ হয়নি, এ কথা বলা হলেও মাঠে যে ধরনের তৎপরতা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এটা স্পষ্টতই আগাম প্রচারণা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্যান্য দলের প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় বড় দুই দলের প্রার্থীরা সুযোগ নিচ্ছেন। এতে করে সমান মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘এগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা বা উঠান বৈঠক নয়। বিভিন্ন স্থানে দাওয়াত ও মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছি।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জানান, ‘আমরা গণসংযোগ বা মতবিনিময় সভা করছিনা। শুধুমাত্র দোয়া মাহফিলে অংশ নিচ্ছি ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের সাথে কথা বলা হচ্ছে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রার্থীদের প্রচারণার খবর পাচ্ছি কিন্তু নির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের এক সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/জেএইচ

Scroll to Top