আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর আজ বুধবার জাহাজটি আটক করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড জানায়, মেরিনেরা নামের এই ট্যাংকারটি (আগে যার নাম ছিল বেলা–১) মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার অভিযোগে জব্দ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
মেরিনেরা যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ এড়িয়ে ভেনেজুয়েলায় যাতায়াত করছিল এবং আগে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যা ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করে।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে ওঠে। আগেও ঝড়ের মধ্যে জাহাজটি জব্দের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
রয়টার্স জানায়, অভিযানের সময় ওই এলাকায় একটি রুশ সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। রাশিয়া বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ ধরনের তৎপরতাকে অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই চলছিল।
মেরিনেরা জাহাজটিকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
অভিযোগ ছিল, এটি লেবাননের হিজবুল্লাহ–সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তেল পাচারে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র এম সোফিয়া নামের পানামার পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজও জব্দ করেছে। ওই সুপারট্যাংকারটিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হয়। এটি ভেনেজুয়েলার তেল চীনে পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এসব জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: আল জাজিরা
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ







