আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে বেআইনিভাবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ইচ্ছেমতো সেন্সরশিপ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়েছে।
এক্স-এর কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ‘গ্রোক ৩’ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে ভারত সরকার। কেননা বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার এবং নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে ‘গ্রোক ৩’ এমন উত্তর দিয়েছে বা দিচ্ছে, যাতে নড়েচড়ে বসেছে ভারতের প্রচারমাধ্যম, এমনকি বিজেপি সরকার। ‘গ্রোক ৩’–এর উত্তর কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন মানুষ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারত তাদের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপব্যাখ্যা করেছে। বিশেষ করে আইনের ৭৯(৩)(বি) ধারা যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে লঙ্ঘন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশকেও তা ব্যাহত করছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার ওই ধারা ব্যবহার করে তথ্য (কনটেন্ট) নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এটি একটি সমান্তরাল আইনি ব্যবস্থা, যা আইন বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছে এক্স।
এক্স যুক্তি দিয়েছে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অন্যান্য বিভাগগুলোকে গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক চালু করা একটি সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কন্টেন্ট ব্লক করার আদেশ জারি করতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকেও ওয়েবসাইটে যোগদানের জন্য বাধ্যতামূলক করতে বলেছে।
সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো একটি রায়ের কথা উত্থাপন করেছেন এক্সের আইনজীবীরা বলছেন, তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিচারব্যবস্থার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে ২০১৫ সালের একটি মামলায় বলা হয়েছে। সেই রায়ে যা বলা হয়েছিল, তা ৬৯-এর মোতাবেক বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্কের আইনজীবীরা; অর্থাৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আগে বিচারব্যবস্থার কাছে যেতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দেশ নিয়ে এসে তবেই তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বর্তমানে ভারত সরকার সমান্তরাল ব্যবস্থা বেআইনিভাবে তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ এক্সের।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন