নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে ছবি ছড়ানোর অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো আসলে ভুয়া ও সম্পাদিত।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই নেতার নাম শওকত আলী। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে শওকতের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের চারাবটতল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে সে।
পুলিশ জানায়, অস্ত্র হাতে থাকা ছবির ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং পরে তাকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’–এর তদন্তে উঠে এসেছে, যে দুটি ছবিকে কেন্দ্র করে শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেগুলো ভুয়া। ছবিগুলো মূলত শওকতের নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা পুরনো ছবি, যেখানে পরে ডিজিটালভাবে অস্ত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
দ্য ডিসেন্ট জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবির একটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শওকত আলী নিজেই তার ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘স্বাধীন বাংলা হয়েছে স্বাধীন ২০২৪.০৮.০৫’। পরবর্তীতে ছবিটি সম্পাদনা করে সেখানে অস্ত্র যোগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়।
আরেকটি ছবি তিনি একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিটিও এডিট করে অস্ত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে।
শওকত আলী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার ছবিতে অস্ত্র বসানো হয়েছে। অন্তত ১০টি ফেক আইডি থেকে এসব ভুয়া ছবি ছড়ানো হয়।
তিনি দাবি করেন, বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।
ভুয়া ছবি ছড়ানোর বিষয়টি জানার পর গত ১২ নভেম্বর তিনি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি অনলাইন জিডি করেন। ওই জিডিতে ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলোর নাম ও লিংকও উল্লেখ করা হয়। শওকত আলীর দাবি, গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ ছিল না।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাথমিক তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়নি। তার বিরুদ্ধে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট মামলাও ছিল না। তাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, বরং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত থেকে শওকত আলী মুক্তি পান।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন






