কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: আগামীর সম্ভাবনাময় কণ্ঠশিল্পীদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’। বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত ও আঞ্চলিক গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দিনব্যাপী এই আয়োজন হয়ে ওঠে সুরের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে প্রথম রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে ৪২ জন প্রতিযোগী অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ‘ইয়েস কার্ড’, যা তাদের পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
প্রথম রাউন্ড শেষে উত্তীর্ণদের হাতে ইয়েস কার্ড তুলে দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও ফেমিনা গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী উজ্জ্বল চক্রবর্তী।
চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর আহ্বায়ক এস. এম. শাজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সংকলন বড়ুয়া এবং প্রতিযোগিতার সদস্য সচিব রুবেল বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিচারক লিটন মিত্র, চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সভাপতি হিল্লোল রায়, সাবেক সভাপতি লায়ন প্রবীর দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম চন্দ বাপ্পি এবং সংগঠনের সদস্য ও কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত।
প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী জগলুল পাশা, লিটন মিত্র, মনোজ কুমার সরকার, মো. সাখাওয়াত, নিখিলেশ বড়ুয়া, ইন্তেখাব আলম মান্না, রাজীব নন্দী, অনুজিত বড়ুয়া লিমন ও মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন পঙ্কজ নাথ, সুমন দাশ, প্রীতম আচার্য্য, রিপন শীল, অভিজিৎ সরকার, সৌরভ দাশ, সজিব দাশ, রিপন দাশ, রনি আচার্য্য, শাকিল তোফা, কুশলব শীল (জুঁই) ও সেতু সাংমা।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাটির উদ্দেশ্য শুধু সেরা কণ্ঠ নির্বাচন নয়; বরং সম্ভাবনাময় শিল্পীদের খুঁজে বের করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে তাদের দক্ষ সংগীতশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ।
এ বিষয়ে আহ্বায়ক এস. এম. শাজাহান, সদস্য সচিব রুবেল বড়ুয়া, সভাপতি হিল্লোল রায় ও সাধারণ সম্পাদক সংকলন বড়ুয়া বলেন, নতুন প্রতিভাকে বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব শিল্পীকে দেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য দক্ষ ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রতিযোগী জানান, এমন সুশৃঙ্খল ও পেশাদার আয়োজন নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অভিজ্ঞ সংগীতশিল্পীদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের প্রত্যাশা, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভাবান শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের জায়গা করে নেবেন।
চাটগাঁ নিউজ/ঝুলন/এমকেএন





