বোয়ালখালীতে দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা

বোয়ালখালী প্রতিনিধি: হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি।

দেবী দূর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে আকৃতি দিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন শিল্পীরা। রাত দিন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পী আর সহযোগিরা মিলে বানাচ্ছেন দুর্গার প্রতিমা। মাটি আর খড় পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব প্রতিমা। এরপর এতে দেওয়া হবে রঙ।

উপজেলার আমুচিয়া মাস্টার বাজার এলাকার শ্রী শ্রী রামঠাকুর শিল্পালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজও সমানতালে চলছে। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা।

প্রতিমা শিল্পী শানু দেব বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানার কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এ বছর তারা ১৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন মিলে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। পাট ও মাটির দামও বেড়েছে। কাজের শুরুতে ব্যস্ততা ও চাপ থাকলেও প্রতিমা তৈরি শেষে মণ্ডপে স্থাপন করা হলে অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়।

এদিকে আমুচিয়া এলাকার নবারণ সাহিত্য পরিষদ পূজামণ্ডপে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকা সাজু দেব বলেন, প্রায় তিন মাস আগে থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছি।

পূর্ব শাকপুরা মাতৃমন্দিরের পূজারি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ১০ অক্টোবর মহালয়া শুরু হচ্ছে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূজা চলাকালে সার্বক্ষণিক তদারকি থাকবে।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে থাকে। এবার উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী।

তিনি বলেন, ৯৭টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি টহল টিমও থাকবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/ইয়াসিন/জেএইচ

Scroll to Top