নিজস্ব প্রতিবিদক: ২০২১ সালের পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেত্রী ও তার দুই সন্তানকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা এক মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে তাদের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এই বিষয়টি জানেন না খোদ মামলার বাদি চট্টগ্রাম মহনগর জামায়াত আমির মোহাম্মদ মাহাবুবুল হাসান রুমিন। তিনি মামলার বিবাদি ভুক্তভোগী হোসনে আরা বেগম পারুলকে চিনেন না বলেও দাবি করেছেন।
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘর্ষের ঘটনায় ফার্ণিচার দোকানের কর্মচারী মো. ফারুক, ছাত্রশিবিরের সাথী ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ছাত্রদলকর্মী ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আর এই ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিলিয়ে প্রায় ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
আর এ সকল মামলায় আসামি করা হয়েছে নগরীর ৭নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেত্রী হোসনে আরা বেগম পারুল ও তার দুই সন্তান মোহাম্মদ আল মাহবুব মাহির চৌধুরী ও আমিরুন নাহিন চৌধুরী।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ পারুল জামিনে মুক্ত হলেও এখনো কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তার সন্তান মোহাম্মদ আল মাহবুব মাহির চৌধুরী ও আমিরুন নাহিন চৌধুরী।
এ বিষয়ে হোসনে আরা বেগম পারুল চাটগাঁ নিউজকে বলেন, আমরা সন্তানেরা কখনও রাজনীতিতে জড়িত ছিল না। অথচ তাদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। তারা এখন কারাগারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আমিও ৮ মাস কারাগারে থেকে জামিনে বের হয়েছি। আমি ৫ বছর আগে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে আসলেও আমার প্রতিপক্ষরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমার এবং সন্তানদের নূন্যতম যোগসূত্র না থাকা সত্বেও আমার যায়গা জমি দখল করার উদ্দেশ্য আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, আামাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে আমার প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেনকে দিয়ে আমার বাড়ি ভাংচুর করায়, লুটপাট চালায়। তারা বর্তমানে আমার বাড়ি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে জমি দখল করে রেখেছে।
তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে পুলিশ ও র্যাবের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান।
বিষয়গুলো জানতে মামলার বাদি চট্টগ্রাম মহনগর জামায়াত আমির মোহাম্মদ মাহাবুবুল হাসান রুমিনকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
এদিকে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি পাঁচলাইশ এলাকায় ভূমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও এসময় তিনি ছিলেন চসিকের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক আলীর ঘনিষ্টজন। তার বিরুদ্ধে ২টি বিস্ফোরক মামলাসহ ৫টি মামলা এবং ৪টি জিডি রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
গত বছরের ২০ নভেম্বর অস্ত্রসহ সেনাবাহিনীর হাতে তিনি আটক হলেও কারাগারে যাওয়ার আগেই অদৃশ্য শক্তিতে ছাড়া পেয়ে যান বলে জানা গেছে।

যদিও মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন চাটগাঁ নিউজের কাছে দাবি করেন আটক ইসমাইল হোসেন আর তিনি এক নন। তার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া নিউজ ছড়ানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা নেই। তিনি কখনো কারাগারে দূরের কথা থানা হাজতেও যাননি।
জমি দখল বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি হোসনে আরা পারুলের কোনো জমি দখল করিনি। পারুল স্বেচ্ছায় জমিটি বিক্রি করে নগদ ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন যার প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমি কেবল জমি বেচাকেনা ও লেনদেনে সহযোগিতা করেছি। ঘর ভাঙ্গার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। যারা জমিটি কিনেছে তারা আপোষে ঘরটি ভেঙ্গেছে। ঘর ভাঙ্গার আগে আসবাবপত্র আগেই সরিয়ে ফেলেছেন পারুল। এখন তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। বরং তিনি আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব খাটিয়ে তার ভাসুরের যায়গা দখলে রেখেছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





