নিজস্ব প্রতিবেদক: পরকিয়া প্রেম, পাওনা টাকা এবং ব্ল্যাকমেইল — এই তিন কারণে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে নিহত মো. আনিছকে (৩৮)। কেবল হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতক প্রেমিকা সুফিয়া (৩৯)। হত্যার পর আনিছের দুই হাত ও দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পুরো শরীর ছয়টি টুকরা করে পলিথিনে মুড়িয়ে আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলা হয়েছিল।
শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতে বায়েজিদ থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, আনিছ পেশায় একজন কসাই ছিলেন। সুফিয়া আক্তারের স্বীকারোক্তি মতে, তাকে গত বুধবার বিকেলে নগরীর অক্সিজেন শহীদনগর এলাকার সুফিয়ার বাসায় ডেকে আনা হয়। প্রথমে তিনি আনিসের মাথায় মসলা বাটার নোড়া (শিল) দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার ভাই ও আরেকজন যুবকের সহায়তায় আনিসের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। পরে তার লাশ ছয় টুকরা করে আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত কুকুরের টানাটানি করতে দেখার পর থানায় খবর দেন। দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করার পর পরিচয় নিশ্চিত করতে হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এতে আনিছের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তার মুঠোফোন কললিস্টের সূত্র ধরে ওই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে শুক্রবার আনিছের লাশের মাথাসহ বাকি খন্ডাংশগুলো উদ্ধার করা হয়।
উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম আরো বলেন, গ্রেপ্তার নারী সুফিয়া একজন বিবাহিত। তার সঙ্গে আনিসের প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ায় এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সুফিয়া দাবি করছে— তার কিছু আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দিয়ে তাকে আনিছ বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তাই পরিকল্পনামাফিক এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, আনিছ তার সঙ্গে কিছু ছবি দিয়ে সুফিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করছিল বলে জানতে পেরেছি। ক্ষিপ্ত হয়ে নারী তার ভাই ও এক স্বজনের সহায়তায় আনিসকে খুন করেছে। তার সাথে আর্থিক লেনদেনও জড়িত আছে। তদন্ত শেষে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।
এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বায়েজিদ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ শনিবার সেই মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





