চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : এবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জাতীয় তেল সরবরাহ পাইপলাইন ফুটো করে ভয়াবহ তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পাইপলাইনের ওপর টিনের ভাড়াঘর তৈরি করে গোপনে তেল চুরির কর্মকাণ্ড চলছিল দীর্ঘদিন। মিরসরাইয়ের হাদি ফকির হাট এলাকায় এ ভয়াবহ কাণ্ড ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তেল ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিপিসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিলগালা করে দেন।
পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও চুরি হওয়া তেলের পরিমাণ নিরূপণে বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিপিসির পরিচালক (অপা. ও পরি.) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো ও কুমিল্লায় জ্বালানি তেল পাঠানো হয় ওই পাইপলাইন দিয়ে। এ লাইনে ঘণ্টায় ৩২০ মেট্রিকটন জ্বালানি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ঘণ্টায় ২৬০-২৮০ টন পাঠানো হচ্ছিল।
বিপিসির পরিচালক (অপা. ও পরি.) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, মাটির প্রায় ১২ ফুট নিচ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইন ফুটো করার কাজে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন, তেলের ড্রাম ও কনটেইনার পাওয়া গেছে ওই ঘরে।
তিনি জানান, পাইপলাইনের নিরাপত্তার জন্য কিছু স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম কার্যকর থাকার কথা। এরপরও কীভাবে তেল চুরির ঘটনা ঘটলো তা তদন্তে জানা যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলা উদ্দিন কাদের বলেন, হাদি ফকিরহাট এলাকায় মাটির প্রায় ১২ ফুট নিচে থাকা বিপিসির তেল সরবরাহের পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরির চেষ্টা করছিল একটি চক্র। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ড্রাম তেল একটি ড্রিল মেশিন ও অন্যান্য কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টিনশেড ঘরটির মালিক নুর জাহান প্রায় এক মাস আগে প্রকৌশলী পরিচয়ে আসা খুলনার আমিরুল ইসলাম নামের একজনকে ঘরটি ভাড়া দেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুর জাহানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ







