চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিএনপি ও জামায়তে ইসলামের প্রার্থীদের মামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপির ১৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা এখনও বিচারাধীন। বাকি চন্দনাইশ এবং হাটহাজারী আসনে শরিকদের সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেননি দলটির প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা যাচাই করে এসব প্রার্থীর মামলার সংখ্যা পাওয়া গেছে। হলফনামায় বিদ্যমান এবং অতীতে হওয়া মামলার কথা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
১৬ আসনের প্রার্থীদের হলফনামায় দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছিল চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৩২টি। এর মধ্যে ৫২টি থেকে খালাস পেয়েছেন। ৮০টি এখনও বিচারাধীন।
অপরদিকে, জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা ছিল চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লেহাগাড়া) আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৮০টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১টি থেকে খালাস, প্রত্যাহার ও অব্যাহতি পেলেও এখনও নয়টি মামলা চলমান আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান ও চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ছাড়া অন্য ১৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ৩৭১টি। এখন পর্যন্ত তারা ২১৪টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এখনও বিচারাধীন ১৩২টি। অন্যগুলো স্থগিত আছে।
অপরদিকে, জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০৪টি মামলা হলেও ২২টি এখনও বিচারাধীন। বাকিগুলো থেকে অব্যাহতি, খালাস পেয়েছেন। কিছু প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আট জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান। পেশাই আইনজীবী ছাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী উত্তর জেলা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলা ছিল, এর মধ্যে ১৯টি বাতিল ও প্রত্যহার করা হয়েছে। বাকি ১৯টি বিচারাধীন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন সরোয়ার আলমগীর। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ২৭টি। এর মধ্যে পাঁচটি থেকে খালাস পেয়েছেন। বাকি ২২টির মধ্যে ১২টি স্থগিত এবং ১০টি বিচারাধীন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। সেটি থেকে খালাস পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৩২টি। এর মধ্যে ৫২টি থেকে খালাস পেয়েছেন। ৮০টি এখনও বিচারাধীন। তবে বিচারাধীন বেশিরভাগ মামলা ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত। যার বেশিরভাগই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ২৯টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৯টিতে খালাস ও রায় হলেও বাকি ১০টি এখনও বিচারাধীন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে একটি মামলা করা হয়। সেটি ২০১৩ সালে হাইকোর্টের আদেশে প্রত্যাহার করা হয়। এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি মামলা করা হলেও চারটি থেকে খালাস পান। বাকি একটি হাইকোর্টের আদেশে বর্তমানে স্থগিত আছে। এখানে জামায়াতে ইসলামী কোনও প্রার্থী না দিলেও সমর্থন দিয়েছে ১০ দলীয় জোটভুক্ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দীনকে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ২০টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি থেকে খালাস পেয়েছেন। তিনটি তদন্তাধীন, একটি রিপোর্ট শুনানির পর্যায়ে আছে। অন্যগুলো স্থগিত আছে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তাদের একজন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ২২টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি থেকে খালাস পেয়েছেন। পাঁচটি মামলায় জামিনে আছেন। গোলাম আকবর খন্দকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাতটি মামলা হলেও সেগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জুর বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুটি মামলা হলেও সেগুলো থেকে খালাস পান। জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চাঁন্দগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হলেও ইতিমধ্যে পাঁচটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি চলমান। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছেরের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৪২টি মামলা হলেও সবকটি থেকে খালাস, অব্যাহতি পেয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৪৭টি মামলা করা হয়। যার সবগুলো থেকে বর্তমানে খালাস, প্রত্যাহার ও অব্যাহতি পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিচারাধীন আছে। বাকিগুলো স্থগিত আছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৩৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি বর্তমানে বিচারাধীন। বাকিগুলো থেকে খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৩২টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২১টি এখনও বিচারাধীন আছে। বাকিগুলোর কিছু স্থগিত আর কিছু প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে একটি মামলা করা হলেও ২০২৫ সালে সেটি থেকে খালাস পান। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ৯টি চলমান আছে। দুটি থেকে খালাস পেয়েছেন। এই আসনে জামায়াত তার জোটভুক্ত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী ওমর ফারুককে সমর্থন জানিয়ে কোনও প্রার্থী দেয়নি। তার বিরুদ্ধে মামলার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগের সময় ৮০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৭১টি থেকে খালাস, প্রত্যাহার ও অব্যাহতি পেলেও এখনও নয়টি চলমান আছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকলেও বর্তমানে সবকটি থেকে খালাস পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও সেগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৩ মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বিচারাধীন। বাকিগুলো থেকে খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ







