বাকলিয়ায় আধিপত্যের লড়াই: মুরাদ বাহিনীর প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ানো মুরাদ বাহিনীর প্রধান মো. মুরাদ (৪৩) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটিয়া উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিন (৩৩)।

পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করে আসছেন। এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তিনি নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন। স্থানীয়ভাবে সেটি ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন মো. জসিম নামে এক ব্যক্তি। প্রায় এক বছর আগে মুরাদের সঙ্গে জসিমের সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি মুরাদের কাছ থেকে মাদক নেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ শুরু করেন জসিম।

এরপর মুরাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে জসিম এলাকায় নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেন। পাশাপাশি কিশোরদের নিয়ে একটি গ্যাং গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোড এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং অনেকে বাসাবাড়িতে অবস্থান নেন।

ওই সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় জসিমসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া থেকে মুরাদকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মুরাদের পিসিপিআর যাচাই করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১৬টি মামলায় তিনি আসামি।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top