বন্যার্তদের খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: রিজভী

আনোয়ারা প্রতিনিধি : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের কষ্ট লাঘবে খাদ্য, চিকিৎসাসেবাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিএনপি কাজ করছে। শুরুতে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও এখন দুর্গম এলাকা পেরিয়ে বন্যার্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারও পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন তৈলারদ্বীপ গ্রামে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং তাদের পাশে থাকতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন।

রিজভী বলেন, দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে এসেছি। ইতোমধ্যে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য, কোথাও যেন খাদ্য ও ওষুধের সংকট না থাকে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা, বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন প্রত্যন্ত পানিবন্দি এলাকায় খাদ্যের সংকট না হয়, সেজন্য সেখানে পৌঁছে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। প্রশাসনও সে অনুযায়ী কাজ করছে। দলের নেতাকর্মীরাও মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসছেন। সরকার এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।

রিজভী বলেন, বিগত সরকার জনগণের স্বার্থ বিবেচনা না করে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করায় দেশে দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার কারণে আজ দেশের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের নেতৃত্বে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম শহর, গ্রামাঞ্চল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের খাল ও কালভার্ট দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ভবিষ্যতেও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

এ সময় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনসহ চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন

Scroll to Top