ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন ভাইয়ের দায়ের কোপে গুরুতর আহত ছোট ভাই মো. মাসুম (৩৫) মারা গেছেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) নগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মা জুলেখা খাতুনও (৫৫)।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের ফকিরা বন এলাকার ভোলা গাজীর বাড়িতে ছোট ভাই মাওলানা মো. মাসুমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তার বড় ভাই মাওলানা ইয়াছিন। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বড় ভাই মাওলানা ইয়াছিন।
ইউপি চেয়ারম্যান শিপন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পাতার বস্তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বড় ভাই ইয়াসিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এসময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মা জুলেখা খাতুন আহত হন। দুইজনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে মাসুমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত তাদের মা জুলেখার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন সকালে একটি শুকনো পাতার বস্তা সরানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ধারালো রামদা দিয়ে ছোট ভাই মাওলানা মো. মাসুম ও মা জুলেখাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে আহত মা ও ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আহতদের নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. মাসুম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভুজপুর থানার ওসি মো. মাহবুবুল হক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত ইয়াছিন পলাতক রয়েছে। তাকে আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/আনোয়ার/এসএ