ফেসবুকে তারেক রহমানের চেয়ে বেশি বুস্ট করেছেন জামায়াত আমীর!

ফরহাদ সিকদার: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ করতে হবে। সে হিসেবে আজ থেকে বন্ধ সবরকম প্রচার-প্রচারণা ও জনসমাবেশ।

তবে এবারের নির্বাচনী আমেজ কেবল জনসভায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোনে। গত এক মাসের (জানুয়ারি ৬, ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬) ফেসবুক বিজ্ঞাপন বা ‘বুস্টিং’ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফেসবুকের পেইড প্রমোশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ফেসবুকের মেটা এড লাইব্রেরি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ব্যক্তিগত ভেরিফাইড পেইজ থেকে সবচেয়ে বেশি বুস্ট করেছেন। ৩০টি বিজ্ঞাপনের পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২,৯৪৯ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ টাকা । অন্যদিকে দলটির অফিসিয়াল পেইজ (Bangladesh Jamaat-e-Islami) থেকে খরচ হয়েছে ১,২০৬ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। সব মিলিয়ে জামায়াতের গত এক মাসের ডিজিটাল প্রচারণা খরচ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ২৩৬ টাকায়।

অন্যদিকে, বিএনপি তাদের প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের মিডিয়া সেল পেইজকে (BNP Media Cell)। বিএনপি মিডিয়া সেল গত এক মাসে ২৬টি বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করেছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া বিএনপির আরেকটি ভেরিফাইড পেইজ (Bangladesh National Party-BNP) থেকে ফেসবুক বুস্টের জন্য খরচ করেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪৭ টাকা এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ভেরিফাইড পেজ থেকে ৭টি বিজ্ঞাপনের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা। সব মিলিয়ে বিএনপির মোট ডিজিটাল বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৬ টাকায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির চেয়ে প্রায় ১.৩৫ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ফেসবুক বুস্টিংয়ে। বিশেষ করে ডা. শফিকুর রহমানের পেইজটি এককভাবে বিএনপির মিডিয়া সেল ও তারেক রহমানের সম্মিলিত খরচের চেয়েও বেশি বুস্ট করেছে। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে এবং তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’দের নজর কাড়তে এই ডিজিটাল বিনিয়োগ নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top