চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের রায়ের আলোকে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আইনজীবীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। তবে একই দিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি ছাড়াই লয়ার সার্টিফিকেট জমা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ষড়যন্ত্রের কারণে এক সপ্তাহ ভোটের প্রচারণার মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
আইনজীবীরা বলেন, পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশে সরওয়ার আলমগীর পুনরায় তার প্রার্থিতা ফিরে পান। লয়ার সার্টিফিকেট ও হাইকোর্টের অনলাইন ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেন। অথচ এই আইনসম্মত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই একটি গোষ্ঠী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাছন আলী বলেন, লয়ার সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট অবজারভেশন রয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা এবং প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার লয়ার সার্টিফিকেট ও অনলাইন কোর্ট অর্ডার যাচাই করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড একই দিনে পরস্পরবিরোধী দুটি আদেশ দেন। প্রথমে সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও পরে চেম্বার জজের স্টে’র কথা উল্লেখ করে তা বাতিল করা হয়। অথচ জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে লয়ার সার্টিফিকেট ও অনলাইন স্ক্রিনশট উপস্থাপন করা হলেও চেম্বার জজের স্বাক্ষরিত কোনো আদেশ নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেনি।
তারা বলেন, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী প্রতীক পাওয়ার পর একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা মূলত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের সঙ্গে সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের পুরোনো আইনি বিরোধকে পুঁজি করে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন তাকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা করেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চেম্বার জজ আদালত থেকে তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলেন, মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার দিন সরওয়ার আলমগীর কোনো ঋণ খেলাপি ছিলেন না এবং এখনো নন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ রয়েছে। সবকিছু সত্ত্বেও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে অপপ্রচার চালানো ও গণমাধ্যমকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাছন আলী, সাবেক সভাপতি এডভোকেট এনামুল হক, এডভোকেট রেজাউল করিম রনি, এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, এডভোকেট হাসান উদ্দিনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





