দেশপ্রিয় বড়ুয়া, লোহাগাড়া : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অর্ধশতাধিক পাহাড়-টিলা কেটে বাড়ি ও মাছের প্রজেক্ট নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। এসব পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে সাতগড় বিটের অধীনে ইসহাক মিয়া সড়ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল বাইতুল মামুর জামে মসজিদ পাশে, রাজারঘোনা, নলবনিয়া, দক্ষিণ সাতগড় বড় ঘোনা এলাকায় এসব বনাঞ্চলের পাহাড়, টিলা কেটে মাটি বিক্রি, বাড়ি নির্মাণ ও অবৈধভাবে গাছ কেটে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় এবং সাতগড় বিট অফিসের পাশেই প্রায় ১০টি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে মাছ চাষ করছে অবৈধ দখলদার।
এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন কাছে তথ্যের জন্য রেঞ্জ কার্যালয়ে গেলে তিনি তথ্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান। পরে রেঞ্জ কার্যালয় ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিট কর্মকর্তা মহসিন প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে ঈদ খরচ নিতে অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, স্যার বলেছেন আপনারা ঈদের সময় এসেছেন এভাবে চলে যাওয়া খারাপ দেখায়। আর সম্পর্কও থাকলো না। আপনারা আসছেন কিছু ঈদের খরচাপাতি নিয়ে যাবেন এটাই না বিষয়, কিন্তু এসেই কী সব তথ্য টথ্য চাইতেছেন। আসছেন যখন কিছু খরচা-টরচা নিয়ে যান।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনদিন বনভূমি উজাড় ও গভীর বনাঞ্চলে বাসস্থান তৈরি করায় তীব্র খাদ্য সংকটে লোকালয়ে প্রবেশ করছে বন্যহাতিসহ অন্যান্য প্রাণীরা। বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল, ঘর-বাড়ি নষ্ট করার পাশাপাশি প্রাণও হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
তবে এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে দেয়া হয় মামলার হুমকি। তাই মামলার ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন না।
স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন ও বিট কর্মকর্তা মহসিন ভূমিদস্যুদের সাথে আতাঁত করায় বনাঞ্চল দখল বন্ধ হচ্ছে না। বন বিভাগের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে চলছে পাহাড়, টিলা কেটে মাটি বিক্রি, গাছ কেটে বন উজাড় করে মাছের ঘের ও বাড়ি নির্মাণ করছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, আমাদের বন বিভাগের পাহাড় কাটার এমন তথ্য যদি পাই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অন্য কারও পাহাড় যেমন, আমাদের বনবিভাগের না হলে তো করার কিছুই নাই। আর যদি আমাদের পাহাড় হয়, ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের কেউ জড়িত থাকে আমরা শাস্তি দেবো।
পরিবেশ কর্মীদের দাবি চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সাতগড় বিটের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা ।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





