পশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিজেই হাজির ‘কাক’!

বাঁশখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঘটে গেছে এক অভিনব ঘটনা। চিকিৎসা নিতে নিজ থেকেই পশু হাসপাতালে গিয়ে হাজির হয়েছে পক্স রোগে আক্রান্ত একটি কাক।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ঘটে এই অভিনব ঘটনা।

এ সময় হাসপাতালের বারান্দার প্রবেশ মুখে কাকটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী ও প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. জুলকারনাইন শাওন ওই কাকের চিকিৎসা করেন।

এদিকে কাকের চিকিৎসা নেওয়ার কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি জানতে চাইলে ডা. জুলকারনাইন শাওন বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে আমরা হাসপাতালের গেট পেরিয়ে রুমে প্রবেশ করতেই দরজার প্রবেশ মুখে একটি কাক দেখতে পাই। আমরা সেটাকে সুস্থ-স্বাভাবিক কাক মনে করে যে যার মতো করে রুমে ডুকে যায়। পরে কাকটি (ডাক) চিৎকার করে করে আমাদের দিকে চলে আসলে আমরা সেটাকে হাতে নিতেই দেখি কাকটি পক্স রোগে (ভাইরাস) আক্রান্ত। এরপর আমি ও স্যার (ডা. সুপন নন্দী) মিলে কাকটিকে চিকিৎসা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে যখন চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয়, আশ্চর্যজনকভাবে কাকটি শান্ত হয়ে যায়, কোনো বাধা দেয়নি। প্রথমে কাকটির ক্ষতস্থান আয়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ব্যাথানাশক ঔষধ ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে। কাকটির শরীরে অসংখ্য চামড়া পিণ্ড (বিষফোড়া) ছিল। সময় মত চিকিৎসা না পেলে কাকটি মারা যেতো।

মূলত কাকটি বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের মতো নিজেই তার চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছিল। বর্তমানে কাকটি সুস্থ রয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর গাছের ডাল থেকে হাসপাতালে বারান্দায় আসছেন। আবার উড়ে চলে যাচ্ছেন। কাকটিকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতেছি আমরা।’

এ চমকপ্রদ ঘটনায় পাখিপ্রেমিদের ভাষ্য, এটি একটি অসুস্থ পাখির চিকিৎসা নয়, বরং মানুষের সহানুভূতি ও প্রাণীর প্রতি দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। নীরব প্রাণীরাও যে কষ্ট বোঝাতে পারে– বাঁশখালীর এই কাক যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল।

চাটগাঁ নিউজ/জসীম/জেএইচ

Scroll to Top