বিনোদন ডেস্ক: ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
এদিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে ওইদিন হাজির না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ঢাকার সাভারের বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদ। নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর সত্যতা পেয়ে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলার পিবিআই পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এতে পরীমনিসহ জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মেলেনি। পরে একই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনিকে হাজির হতে সমন জারি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে আসামি পরীমনি অসৎ উদ্দেশে বাদী নাসির মাহমুদকে ফাঁদে ফেলে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে ঢাকা বোট ক্লাবের নিয়ম উপেক্ষা করে বিনামূল্যে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের পার্সেল নিতে না পেরে বাদীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি প্রদান করেন। পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদীর দিকে অ্যাশট্রে ছুড়ে মেরে তার ডান কানের ওপর মাথায় আঘাত করে নীলাফোলা জখম করেন। এ ছাড়া আসামিদের ছোড়া ভাঙা গ্লাসের টুকরায় বাদীর বুকে লাল চিহ্নিত স্ক্র্যাচ মার্কযুক্ত জখম হয় এবং ক্লাবের বারের ভেতরে যত্রতত্র গ্লাস, কাচের বোতল, অ্যাশট্রে ইত্যাদি ছুড়ে ফেলে তাণ্ডব চালানো হয়। যার ফলে আসামি পরীমনি বাদীর আনা অভিযোগ অনুযায়ী ৩২৩/৫০৬ ধারার অপরাধ করেছেন মর্মে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বারের ভেতরে তাণ্ডব করতে থাকলে সাক্ষী তুহিন সিদ্দিকিকে বাদী নাসির আসামিদের নিয়ে বার থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তখন আসামি জুনায়েদ বোগদাদী জিমি তেড়ে এসে বাদী নাসির মাহমুদকে গালমন্দ করতে করতে এবং হুমকি প্রদর্শনপূর্বক ২-৩টি কিল-ঘুসি মারেন।
এতে আসামি জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে বাদীর আনা অভিযোগ অনুযায়ী ৩২৩/৫০৬ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বাদীর আনা কোনো অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






