চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না-এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতিও তিনি দেননি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপাচার্য বলেন, সরকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সরকার তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না-এ রকম কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। আপনারা দেখেছেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’
এ ধরনের সংবাদ প্রচার না করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে তারা দুর্ভোগে পড়েছিলেন। এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করতে না দেওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






