আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
রোববার চীনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ৬৮৫ জন মারা গেছেন এবং ২,৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোট জেলায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর হেলিকপ্টার চলাচল আবার শুরু হয়েছে। কোনো হেলিকপ্টারে পোশাক, চাল, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে, আবার কোনো হেলিকপ্টারে করে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নেপালে এ পর্যন্ত ৩,৭০০-এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে অনেক মানুষ কেবল পরনের কাপড় নিয়ে পৌঁছেছেন।
টানেলে আটকা শতাধিক শ্রমিক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে শতাধিক শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাদায় ভরা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারীরা খনন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে হেলিকপ্টারের ঝুড়ি ও দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল-উদ্ধারকারী দলও অভিযানে যোগ দিয়েছে।
নুয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনরা উদ্ধারকেন্দ্র ও হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন। কাঠমান্ডুতেও অনেকে নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে নিয়ে হাসপাতাল ও সরকারি তালিকায় তাদের নাম খুঁজছেন। উদ্ধার অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারই এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাতে আন্তর্জাতিক সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এখনও নিখোঁজদের খুঁজে বের করা বর্তমানে আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, নেপাল সরকার টানেল থেকে উদ্ধার, জীবিতদের শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, দ্রুত ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং মর্গের জন্য রেফ্রিজারেটরের মতো বিশেষায়িত সহায়তার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে অনুরোধ করেছে।
পরিবারগুলো তথ্যের সন্ধানে
ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের খবরের জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছে, কারণ মৃতের সংখ্যা এবং নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অন্যরা আশার কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতে হাসপাতাল এবং কাগজের তালিকা তন্নতন্ন করে খুঁজছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা ভোর থেকেই প্রধান সরকারি হাসপাতালের বাইরে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খবরের জন্য মরিয়া হয়ে জড়ো হয়েছিল। অনেকেই হাতে ছবি তুলে হেল্প ডেস্ক এবং হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডের মধ্যে ছোটাছুটি করছিল।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





