চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দায়িত্ব পালনে শতভাগ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে রাষ্ট্রকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন গ্রহণ করেও প্রত্যাশিত নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারার অভিযোগ এসেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে এবার সেই আস্থার ঘাটতি দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগে প্রশাসন বারবার আহত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এবার প্রমাণ করা হবে যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকারের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হবে।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
মাঠে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দায়িত্বের জায়গায় রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলেও, এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে তাঁদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এসেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ বিজয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার বিষয়টি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল আনুষ্ঠানিক একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জেলায় স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন





