‘নিজের সন্তানই নিরাপদ নয়, অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব কীভাবে’
চট্টগ্রামে ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষোভ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সকালে তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে নাওয়াল আনসারীকে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান সিএমপি পুলিশ কর্মকর্তা আনসারুল করিম। পরে দুপুরে নিজের বাসার সামনেই সেই মেয়েকে অটোরিকশার ধাক্কায় রক্তাক্ত হতে দেখেন তিনি। বাসার গেটের সামনে দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়া মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে হতাশা ব্যক্ত করেন ওই কর্মকর্তা। যা রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ব্যাপক শেয়ার হয় এবং কমেন্টে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানান কমেন্টকারীরা।

জানা গেছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে খুলশি জালালাবাদ সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আনসারুল করিম লিখেন, ‘সকাল আটটায় আমি নিজেই আমার আদরের মেয়েটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসলাম। ক্লাস শেষ করে বেলা দেড়টার সময় ঠিক বাসার মেইন গেটের সামনে আসার পর গাড়ি থেকে নামা মাত্রই হঠাৎ বিদ্যুৎচালিত একটি অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে আমার অবুঝ মেয়েটাকে সজোরে ধাক্কা দিলে আমার ছোট্ট মেয়েটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।’

তিনি জানান, নাওয়াল দুই হাত, মাথা, ঠোঁট, পুরো মুখমণ্ডল ও কপালে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে প্রথমে জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি লেখেন, ‘সরকারি চাকরি করে নিজের অবুঝ সন্তানের নিরাপত্তা যেখানে আমরা নিশ্চিত করতে পারি না, সেখানে আমরা কীভাবে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব, এটাই আমার প্রশ্ন।’

জানা গেছে, নাওয়ালের বাবা আনসারুল করিম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগে কর্মরত। এর আগে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।

জানতে চাইলে আনসারুল করিম বলেন, স্কুল ছুটির পর বেলা দেড়টার দিকে তার মেয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে ভবনের গেটে পৌঁছানোর পরপরই অটোরিকশাটি দ্রুতগতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এসব অটোরিকশার নির্দিষ্ট কোনো গতিসীমা নেই এবং চালকেরা অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালান।

তার অভিযোগ, অটোরিকশাটি ছিল অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন। ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অবৈধ অটোরিকশার চালকদের কাছে দেশের মানুষ কত দিন জিম্মি থাকবে। প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এসব অটোরিকশা চালানোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আনসারুল করিম আরো বলেন, বড় ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবন ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নগরীর কোথায় এসব অটোরিকশা চলতে পারবে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, কোনো অটোরিকশা জব্দ হলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা উচিত।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top