নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনা— হাইকোর্টের বেঞ্চ বদলের আবেদন, শুনানি মুলতবি

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে বদলি (ট্রান্সফার) চেয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন দিয়েছেন রিট আবেদনকারী।

হাইকোর্টের বিভক্ত রায়ের পর বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই রিটের শুনানি চলছিল। আবেদনের বিষয়টি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার আদালত এক দিনের জন্য শুনানি মুলতবি করেছেন।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। ১৩ জানুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত শুনানির জন্য ২০ জানুয়ারি দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

ইতিমধ্যে রিটটি দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে বদলি চেয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন দেন রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। আজ আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক প্রথম আলোকে বলেন, ওরা (রিট আবেদনকারীপক্ষ) এক দিনের সময় চেয়েছে। আগামীকাল হবে।

রিট আবেদনকারীর অন্যতম আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি (রিট) ট্রান্সফার (বদলি) করে অন্য কোর্টে দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে রিট আবেদনকারী একটি আবেদন করেছেন। বিষয়টি জানানোর পর আদালত এক দিনের জন্য শুনানি মুলতবি করেছেন।

এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়।

২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। বিভক্ত রায়ের পর ৪, ৮ ও ১৩ জানুয়ারি শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে ১৩ জানুয়ারি আবেদন দাখিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি–সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়, যা সেদিন নথিভুক্ত করা হয়।

চালু এই টার্মিনালটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top