নিজস্ব প্রতিবেদক : বুদ্ধির জোরে নারী ছিনতাইকারীর খপ্পর থেকে রক্ষা পেলেন বায়িং হাউজের এক কর্মকর্তা। তবে ওই নারী ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোবাইল ও নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে আহত হয়েছেন তিনি।
ছিনতাইয়ের শিকার আবদুল্লাহ আল রাজীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার সময় পতেঙ্গা থানাধীন ইপিজেড রিজেন্সি গার্মেন্টস থেকে কাজ শেষে বাসার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন তিনি। তিনি ইউনিক্লো কোম্পানি লিমিটেড নামক একটি বায়িং হাউসে কর্মরত। রিজেন্সি গার্মেন্টসে তিনি তার প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর পক্ষ থেকে ইন্সপেকশনের কাজ করে থাকেন। প্রতিদিনের মত কাজ শেষে তিনি রিজেন্সির নিজস্ব গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ৮ টার সময় লালখান বাজার সংলগ্ন ফ্লাইওভারের মুখে গাড়ি থেকে নামলে বোরকাপড়া মুখ ঢাকা এক নারী তাকে ‘ ভাই টাইম কত হইছে’ বলে জানতে চান। তবে অপরিচিত মহিলা হওয়ায় তিনি তাকে এড়িয়ে হাঁটতে শুরু করেন। এমন সময় ওই মহিলা আচমকা তাকে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করে দেন। অপরিচিত ওই মহিলার এমন আচরণে কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে একপর্যায়ে দৌঁড়াতে শুরু করেন। এসময় ওই মহিলাও তাকে ধাওয়া দিয়ে ‘চোর চোর’ বলে দৌঁড়াতে থাকেন। এসময় ওই মহিলার চিৎকার শুনে পথচারি কয়েকজনও তাকে ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া দেন। দৌঁড়াতে গিয়ে আবদুল্লাহ আল রাজী রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এতে তিনি দুই হাতে আঘাত পান। প্রাণে বাঁচতে কোনোরকমে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি আবার দৌঁড়াতে থাকেন। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে তিনি ওয়াসা মোড়স্থ ফেয়ার জেনারেল স্টোরে এসে আশ্রয় নেন। এসময় পিছু নেওয়া ওই মহিলা ও লোকগুলোও ওই দোকানে এসে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন।
তখন দোকানের মালিক আসাদুজ্জামান উভয় পক্ষের কাছ থেকে ঘটনা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আসাদুজ্জামান ওই মহিলার বয়ান শোনার ফাঁকে ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল রাজী পুলিশকে ফোন করে দেন।
মহিলা আসাদুজ্জামানকে বলেন, এ লোক আমার মোবাইল ছিনতাই করে পালাচ্ছে। আপনারা আমার মোবাইলটি উদ্ধার করে দেন।
এসময় আসাদুজ্জামান ভুক্তভোগী রাজীর কাছ থেকে তার মোবাইলটি বের করে সত্যতা প্রমাণ শুরু করেন।
এ বিষয়ে ফেয়ার জেনারেল স্টোরের মালিক আসাদুজ্জামান জানান, মোবাইলটি আবদুল্লাহ আল রাজীর। এ মোবাইলটির লক খুলেছে রাজীর আই কন্টাক্ট
ভেরিফাইয়িংয়ের মাধ্যমে। ওই মহিলার আসলে মোবাইল ছিনতাইকারী দলের সদস্য। নারী হওয়ায় ঘটনা না বাড়িয়ে তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ছুটে আসা খুলশী থানা পুলিশ সদস্য মতিন ও তার সহকর্মীরা জানান, ওই নারীর সাথে মোবাইল চোর চক্রের আরও সদস্যরা ছিলেন। সবাই মিলে সাধারণ মানুষের বেশে এ কর্মকর্তাকে ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো, এ কর্মকর্তা আশ্রয় পেয়েছিলেন। নাহলে তিনি মোবাইল, টাকা-পয়সা হারানোর পাশাপাশি গণধোলাইয়েরও শিকার হয়ে যেতেন। ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে আমরা আটক করেছিলাম। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আটক ব্যক্তি তাদের পরিচিত। তিনি এ কাজের সাথে জড়িত নন। তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছিনতাই চক্র কর্মজীবী সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে সাধারণ জনগণকে সতর্ক সচেতন থাকতে হবে।
চাটগাঁ নিউজ/ইউডি/এসএ