চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আছরের নামাজ পড়তে দাঁড়িয়েছিলেন শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫০)। এক রাকাত নামাজ শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়াতেই দা নিয়ে অনবরত কুপিয়ে হত্যা করে তারই পুত্রবধূ ছেনুয়ারা বেগম (২৮)।
আর মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাজপুরা পূর্ব পাড়া এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মনোয়ারা বেগমের ছেলে মো. ইদ্রিস পেশায় একজন জেলে। তার স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগমের সঙ্গে গত পাঁচ দিন আগে শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ছেনুয়ারা রাগ করে তার বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তবে ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন।
ঘটনার দিন ছেনুয়ারার স্বামী মো. ইদ্রিস প্রতিদিনের মতো মাছ ধরতে সাগরে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ছেনুয়ারা নামাজরত শাশুড়ির গলায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। গুরুতর আহত মনোয়ারা বেগমকে প্রথমে বাহারছড়া শামলাপুর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেনুয়ারা বেগম ব্যবহৃত দা ঘরের চালের উপর ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের শাশুড়িকে কুপিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত ছেনুয়ারাকে আটক করেন।
এ বিষয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস জানান, আটক পুত্রবধূকে আলামতসহ পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সেই সাথে শাশুড়ির মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ছেনুয়ারা বেগমের ঘরে ৪ মাস এবং আড়াই বছর বয়সের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ৪ মাসের বাচ্চাটি দুগ্ধ পানের জন্য মায়ের সঙ্গে পুলিশ কাস্টডিতে থাকলেও আড়াই বছরের শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ/এসএ





