দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধান উপদেষ্টা। ব্যাংকক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান থাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ড. ইউনূস। দুই দিনের সফরে বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সফরকালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন এবং আঞ্চলিক শান্তি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

ব্যাংকক সফরের সময় অধ্যাপক ইউনুস থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টের কথা জানান, যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ব্যাপক ধরপাকড়, নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আনুমানিক ১,৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার কথা বলা হয়, যার মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

অধ্যাপক ইউনুস ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে গঠনমূলক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা ভারতের আতিথেয়তার অপব্যবহার।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতান সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান এবং চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন। এছাড়া বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তবগের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং নির্ধারিত কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আলোচনা হয়।

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী হারিনিয়া অমরাসুরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে তিনি চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চান।

মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির কথা জানানো হয়, যেখানে মিয়ানমার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়েছে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছাড়াও তিনি বিমসটেক-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে এই আঞ্চলিক জোট নতুন গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতারা।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিমসটেক হচ্ছে একটি আঞ্চলিক সংগঠন, যা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top