দক্ষিণ চট্টগ্রামে ধানের শীষের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দাঁড়িপাল্লা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি সংসদীয় আসনে তিনটিতে দ্বিমুখী এবং তিনটিতে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সংশ্লিষ্ট আসনের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি লড়াইয়ে উঠে এসেছে বৃহত্তর সুন্নিজোট সমর্থিত প্রার্থীরা।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. আবু নাছের ও মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ হাসান আজহারী সমানতালে প্রচার চালাচ্ছেন। এখানে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুবাইরুল হাসান আরিফ। কিন্তু জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এনসিপি প্রার্থী মাঠে থাকলেও ভোটারের কাছে তিনি পরিচিত নন। তাই আলোচনাতে নেই তিনি। ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। কাগজে-কলমে এখানে সাত প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় আছেন তিনজন। তাদের মধ্যে ভোটাররা এগিয়ে রাখছেন ধানের শীষের প্রার্থী এনামুল হক এনামকে। এ আসনে তিনি ২০১৮ সালেও নির্বাচন করেছিলেন। এবারো তাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই তিনি গণসংযোগে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছেন। বিএনপির নির্যাতিত নেতা হিসেবে তার প্রতি মানুষের সহানুভূতিও আছে। জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) দলীয় সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে কাজ করছেন। মাঝখানে ১১ দলীয় জোট থেকে এলডিপির প্রার্থী এয়াকুব আলীকে প্রার্থী করা হলে ফরিদুল আলম সরে দাঁড়ান; কিন্তু ভোটের মাঠে ১১ দলীয় জোটের দুর্বল প্রার্থীর ভরাডুবির আশঙ্কায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। আবারও মাঠে নামেন জামায়াতের ফরিদুল আলম।

অন্যদিকে, বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি প্রচারে চষে বেড়াচ্ছেন দিনরাত। তিনি এর আগে ৭০ হাজার ভোট পেয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসনে সুন্নী মতাদর্শীদের আছে আলাদা ভোট ব্যাংক। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এ এলাকায় ৫ হাজারের অধিক ব্যাংকার চাকরিচ্যুত হন। তাদের পাশে দাঁড়ান পেয়ারু। তাই ধানের শীষের সঙ্গে এ প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।

চট্টগ্রাম- ১৩ আসন (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনটিতে সাতজন প্রার্থী আছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুর রব চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা। এখানেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান ও ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এসএম শাহজাহানের মধ্যে জমে উঠেছে লড়াই। তাছাড়া এ আসনে বিএনপির একটি বৃহৎ অংশ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নানা অজুহাত এনে কাজ করছে না। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীরা।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার আংশিক) আসনটি চন্দনাইশের দুটি পৌরসভা, আটটি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

আসনটিতে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত জসিম উদ্দীন আহমেদ, এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা সোলাইমান ফারুকী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াছ। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুকের। এই আসনে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীরও আছে বিশাল ভোট ব্যাংক। তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের টাকার কাছে অন্য দুই প্রার্থী পেরে নাও উঠতে পারেন। এ আসনের সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ইমেজ কাজে লাগিয়ে জামায়াতের ভোট নিয়ে চমক দেখানোর সম্ভাবনা আছে অলিপুত্র ওমর ফারুকের।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার আংশিক) আসনটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে আছে লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়ন, সাতকানিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। জামায়াত মনোনীত শাহাজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি মনোনীত নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম (হাতপাখা)।

কাগজে-কলমে প্রার্থী তিনজন হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে আসনটি জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শাহাজাহান চৌধুরী এ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে অন্যরা নবীন। তাই চট্টগ্রামের এ আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ডিজিটাল প্রচার, ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়েও বিএনপি প্রার্থী তরুণদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যতিক্রম আসন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও আছে। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে চট্টগ্রাম-১৬ আসন গঠিত। এখানে ৭ জন প্রার্থী।

তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্টের আবদুল মালেক, গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল হক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মোহাম্মদ লেয়াকত আলী। সাত প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। মিশকাত-লেয়াকত ও জহিরুলের মধ্যে।

বিএনপির বিদ্রোহীর সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ আসনে বাজিমাত করতে পারেন জামায়াতের জহিরুল। তাছাড়া জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল এর আগে বাঁশখালী উপজেলার দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার জয়ের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top