নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আমাকে একটু জড়িয়ে ধরো মা’ হাসপাতালের বেডে শুয়েই কাতর কণ্ঠে বারবার বলে যাচ্ছে ৭ বছরের ছোট্ট শিশু আরাধ্যা বিশ্বাস। জ্ঞান ফিরলেও এখনো ভর্তি আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে। চিকিৎসকরা জানান, এখনো শঙ্কা মুক্ত নয় আরাধ্যা। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই বারবার খুঁজছে তার মা-বাবাকে। কিন্তু ছোট্ট শিশুটি জানেই না একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সব কিছু। বেঁচে নেই তার বাবা-মা!
আরাধ্যা শুধু নিজের নাম আর বাবার নাম বলতে পারে। এর বেশি কিছু তার মনে নেই। মনে নেই ঠিকানাও।
জানা যায়, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহের দিলীপ বিশ্বাস। ছোট্ট মেয়ে আশা ছিল সমুদ্রে গোসল করবে, বাবা-মা’র সাথে ঘোরাঘুরি করবে, আনন্দ করবে- আরো কতো কি! তবে সেই আশা আর পূরণ হলো না আরাধ্যার। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৭টায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি ও তার স্ত্রী সাধনা রানী। তবে সঙ্গে থাকা তাদের ৬ বছর বয়সি মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস বেঁচে গেছে অলৌকিকভাবে। তারা ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আরাধ্যার পায়ের হাড় ভেঙে গেছে, আঘাত লেগেছে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে। ডাক্তার বলেছেন, এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় আরাধ্যা।
এদিকে, বাবা-মা হারা অনাথ আরাধ্যাকে হাসপাতালের বেডে মায়ের মতো দেখাশুনা করছেন সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক পিংকি দে।
তিনি বলেন, সে কিছুক্ষণ পরপর তার মাকে খুঁজছে। কি বলে তাকে সান্ত্বনা দিব, তার অবস্থা দেখে আমার নিজেরই কান্না পাচ্ছে।
সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের অন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, আরাধ্যা আমাদের স্বেচ্ছাসেবী পিংকি দেকে বলছিল- তুমি ঘুমাইও না, আমার পাশে জেগে থাকো।
ওই স্বেচ্ছাসেবক আরও জানান, আমাদের স্বেচ্ছাসেবী পিংকি আরাধ্যার কাছে যাওয়ার পর আরাধ্যা তাকে বলছিল- মা তুমি আসছো, আমাকে একটু জড়িয়ে ধরো!
চাটগাঁ নিউজ/এইচএস/এসএ