জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেগম জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন : আমীর খসরু

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কোনো দিন আপস করেননি। তিনি নিজের জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই তো মৃত্যুর পর এ দেশের মানুষ তাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আমীর খসরু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, অতিথিবৃন্দ তাকে সম্মান জানানোর জন্য এসেছিলেন। তারা সবাই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বিরল সম্মান দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ইতিহাস গড়েছেন।

১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়গুলোতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।’

আমীর খসরু বলেন, ‘প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর। বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জেনারেল সেক্রেটারী রেজাউল করিম আজাদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা.মো. আব্বাস উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির ট্রেজারার অধ্যক্ষ লায়ন ড. মোহম্মদ সানাউল্লাহ, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী মো. সাগির, স্পোর্টস এন্ড কালচারাল সেক্রেটারী ডা. ফজল করিম বাবুল, ডোনার মেম্বার মো. হারুন ইউসুফ ও ইঞ্জি. মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তানভীর, সাইফুল আলম, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা.অসীম কুমার বড়ুয়া, হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, অটিজম ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ডা.মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী আরজু, পরিচালক (মেডিকেল এ্যাফেয়ার্স) ডা. এ. কে. এম. আশরাফুল করিম, পরিচলক (ফিন্যান্স) রফিকুল আলম, উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোশাররফ হোসাইন, উপ পরিচালক (ফিন্যান্স) মনজুর আলম চৌধুরী, উপ পরিচালক (প্রশাসন, আইসিএইচ) ডা. মো. আবু সৈয়দ চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপকবৃন্দ, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top