জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চক্রটি ভুক্তভোগীদের জিমেইল ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবার বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে সেই অর্থ অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হতো।

শুক্রবার (৫ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৭ এপ্রিল বিকেলে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফোন চালু হলে তিনি দেখতে পান, তার ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন মোবাইল থেকে উধাও হয়ে গেছে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানতে পারেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইকবালসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততা উদঘাটন করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির প্রধান মো. ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংক চেকবই এবং তিনটি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের জিমেইল ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিত। এরপর ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করত। আত্মসাৎ করা অর্থ একাধিক ধাপে স্থানান্তরের মাধ্যমে আড়াল করে পরে অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও সিম সংগ্রহ করে অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার করত। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হতো।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, সাইবার প্রতারক চক্রগুলো এখন অত্যন্ত কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা প্রথমে জিমেইল বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন নিজের সিম, ব্যাংক হিসাব, বিকাশ বা নগদ হিসাব অন্যের কাছে ব্যবহার করতে না দেন। একই সঙ্গে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও দ্বিস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাইবার অপরাধ বা অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জেলা পুলিশ নাগরিকদের জিমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী ও পৃথক পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দ্বিস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা এবং ওটিপি, পিন, সিভিভি নম্বর বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জননিরাপত্তায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top