চলে গেলেন অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান

বিনোদন ডেস্ক: মঞ্চসারথি আতাউর রহমান আর নেই। ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাতে এই অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর।

আতাউর রহমান বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

শর্মিষ্ঠা রহমান জানান, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মঙ্গলবার (১২ মে) আতাউর রহমানের মরদেহ শহিদ মিনারে নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ১ মে বাসায় পড়ে যান আতাউর রহমান। তখন থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এর পর তাকে প্রথমে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, তার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। তবে ওই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে ছিল। ফলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শর্মিষ্ঠা রহমান বলেন, ‘ভর্তির পরই বাবাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শনিবার (৯ মে) শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ফের অবস্থার অবনতি হলে রোববার (১০ মে) তাকে ফের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আর সোমবার দিবাগত রাত ১টায় বাবার লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী আতাউর রহমান। তিনি একাধারে অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। মহৎ প্রাণ এই ব্যক্তি ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম গ্রহণ করেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শেখ আতাউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন।

১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটির মাধ্যমে নাট্য নির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এই প্রতিষ্ঠাতা এর পর ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’- এর মতো নাটকগুলো নির্দেশনা দিয়েছেন।

নাগরিকের নাট্য সম্প্রদায়ের বাইরে আতাউর রহমান ‘আগল ভাঙার পালা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘নারীগণ’, ‘রুদ্র রবি ও জালিয়ানওয়ালাবাগ’ নাটকগুলো নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি নাট্য ও সাহিত্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বই প্রকাশ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’, ‘লেখনী’ ইত্যাদি। এ ছাড়া তিনি অভিনয় করেছেন বেশ কিছু টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে।

আতাউরর রহমান বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ নাটকের আপিল কমিটি ও চলচ্চিত্র জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ শাখার পরে বিশ্বশাখার সভাপতিও ছিলেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব। আতাউর রহমান দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top