চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আবাসিক হলের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাঁকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আলাওল হল সংসদের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে প্রভোস্টের সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা, সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি, ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি এবং জরুরি সংস্কারকাজ থমকে থাকার প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো হলেও হল প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রভোস্ট দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন এবং শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কার্ড জমা নিয়ে রাখেন এবং নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেন। হল সংসদের সঙ্গেও তাঁর কোনো সমন্বয় নেই। প্রশাসনিক কাজে ঢিলেঢালাভাবের কারণে হলের সার্বিক পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এর আগে আজ সকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে প্রভোস্ট ভেতরে থাকা অবস্থায় হল কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে কাউকে সহায়তা করেন না। তিনি সবার ওপরে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি এই হলে থাকার কোনো অধিকার রাখেন না।
সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি করেন। কেউ তাঁর কক্ষে কোনো দাবি নিয়ে গেলে তিনি সবকিছু লিখিত দিতে বলেন। যেকোনো সাধারণ বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি হয়রানি করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই।’
ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক বনি আল আমিন সরকার বলেন, ‘হলের শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁরা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নেবেন। কিন্তু প্রভোস্ট বিভিন্ন সময় খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়সহ সবকিছুতে বাধা দেন। তাঁর কারণে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ।’
অবরুদ্ধ অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরী বলেন, ‘আপনি হলে আসেন। আমরা সরাসরি দেখা করে কথা বলব।’ তিনি আবাসিক হলে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন কি না— এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছি। তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






