চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকালে মেয়ের সাথে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে মেয়ে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
একপর্যায়ে তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ইব্রাহীম খলিল (৬০)। তাঁর বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করেন। তখন তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে নাশিতা তাসনিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার্থী। নাশিতার পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারিত ছিল শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে, যা নতুন কলা অনুষদ ভবন হিসেবে পরিচিত। মেয়ে কেন্দ্রে ঢোকার পরই ইব্রাহীম খলিল বুকে ব্যথা অনুভব করেন।
অসুস্থ বোধ করায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েন। সেখানে অবস্থানকালে একপর্যায়ে তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে। বিষয়টি লক্ষ্য করে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
চিকিৎসাকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানান, ইব্রাহীম খলিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তাঁকে দ্রুত নগরের বড় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
নিহত ইব্রাহীম খলিলের প্রতিবেশী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে নাশিতা তাসনিম চট্টগ্রামের কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বাবা নিজেই তাঁকে নিয়ে ক্যাম্পাসে যান। পরীক্ষাকেন্দ্রে মেয়ে ঢোকার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে তাঁর মরদেহ বাসায় রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই ইউনিটে সাধারণ আসনের সংখ্যা ৮৪৯টি। এসব আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ৫১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থী। ডি ইউনিটের আওতায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ৯টি বিভাগ, আইন অনুষদের আইন বিভাগ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের দুটি বিভাগসহ মোট ১২টি বিভাগ রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন







