চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার পাহাড়ি অঞ্চল হাতিয়াখোলায় পারিবারিক বিরোধ ও অপমানের জেরে ছৈয়দ নুর (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড় থেকে কাঠ কেটে বাড়ি ফেরার পর ছৈয়দ নুর স্ত্রী পারভীনের কাছে পানি চান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছৈয়দ নুর রাগের মাথায় স্ত্রীকে কয়েকটি চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর পারভীন পাশের বাড়ির জাবের নামে এক ব্যক্তিকে জানান যে, পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্বামী তাকে মারধর করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে গত বুধবার জাবের দুই দফায় ছৈয়দ নুরকে মারধর করেন। একইদিন রাতে জাবেরের স্ত্রী জাহেদাও ছৈয়দ নুরকে তার স্ত্রী পারভীনের সামনে স্যান্ডেল দিয়ে দীর্ঘ সময় মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অপমানিত হয়ে ছৈয়দ নুর বিষপান করেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেন। প্রথমে তাকে দোহাজারী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
রোববার রাতে তার মরদেহ দোহাজারী হাতিয়াখোলা এলাকায় আনা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। তারা জানতে চান, তিনি কোথায় মারা গেছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। তবে স্ত্রী পারভীন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, স্বামী চট্টগ্রাম শহরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ছেলেকে দেখতে গিয়ে মারা গেছেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান জানান, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তি বিষপান করেছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সঠিক স্থান ও কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





