চন্দনাইশে স্ত্রীকে হত্যা করা সেই ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে বাক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া স্বামী নুরুল হুদা পারভেজকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দোহাজারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান।

এর আগে আজ সোমবার সকালে পুলিশ দোহাজারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জামিরজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকায় নুরুল হুদা পারভেজের বসতঘর থেকে বাক প্রতিবন্ধী নারী সালমা বেগমের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ বছর আগে বাক প্রতিবন্ধী সালমাকে স্ত্রী পরিচয়ে নিজ ঘরে এনে রাখেন মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে প্রকৃতির নুরুল হুদা। যদিও তাদের বিয়ের কোনো প্রমাণপত্র এবং ওই নারীর পৈতৃক বাড়ি ও স্বজনের কোনো সন্ধান তিনি পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেননি, কিন্তু সালমার গর্ভে চার সন্তানের জন্ম হয়। সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি সালমা একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন।

এদিন সকালে মা তার ঘরে গিয়ে দেখেন সালমার নিথর দেহ পড়ে আছে, নুরুল হুদা ঘরে নেই। এরপর পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে তার দাফনের প্রস্তুতি নিলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা তথ্য পেয়েছি, নুরুল ‍হুদার শারীরিক নির্যাতনে সালমার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আমরা নুরুল হুদাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছিলাম। সর্বশেষ দোহাজারী এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল হুদা বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়ান। কোনো এক মাজার থেকে বাক প্রতিবন্ধী সালমাকে বিয়ে করেছেন জানিয়ে তাকে বাড়িতে এনেছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নুরুল হুদা তাদের দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে গেছেন। তবে তার মা গোলতাজ বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, বড় সন্তানকে তিনি লালন পালন করছেন। অভাবের কারণে দুই শিশু সন্তানকে তাদের দুই স্বজন তাদের ঘরে রেখে লালন পালন করছে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top