চন্দনাইশে অবৈধ ইটভাটার দাপটে হুমকিতে বন ও জনস্বাস্থ্য

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও বনাঞ্চল বিপন্নের পথে। উপজেলার ৩০টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র দুটি ভাটায়। বাকি ২৮টি ভাটা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ, যার ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও হুমকি তৈরি হচ্ছে।

২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নীতিমালা অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ চন্দনাইশের অধিকাংশ ইটভাটাই গড়ে উঠেছে পাহাড় ও বনাঞ্চলের কোল ঘেঁষে। ফলে পাহাড় কাটা মাটি এবং বনের কাঠ সংগ্রহ তাদের জন্য সহজ হয়ে গেছে।

পরিদর্শনে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি টন কয়লা কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬–২০ হাজার টাকা, অন্যদিকে মাত্র ৫–৬ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এক টন জ্বালানি কাঠ। এই খরচ বাঁচাতে ভাটা মালিকরা কয়লার বদলে বনের কাঠ ব্যবহার করছেন। ইটভাটার শ্রমিকদের তথ্যমতে, প্রতিটি ভাটায় প্রতিদিন গড়ে ৬–৭ টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যার বড় অংশ আসছে স্থানীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে। প্রতি রাতে ট্রাক ভরে কাঠ এসব ভাটায় সরবরাহ করা হয়।

কেবিএম ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, জিগজ্যাগ পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা থাকলেও ভাটার চারপাশে পাহাড়সম কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় সব ভাটায় একইভাবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে ভয়াবহ বায়ুদূষণ হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতা হারাচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চললেও চন্দনাইশে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চন্দনাইশ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বাদশা জানান, ২৯টি ভাটা চালু থাকলেও আইনি জটিলতায় ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তার দাবি, শ্রমিকদের রান্না এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু কাঠ ব্যবহার হয়।

বন বিভাগ দোহাজারী রেঞ্জের নবনিযুক্ত রেঞ্জার মনোয়ার ইসলাম জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং দ্রুত বনের কাঠ পোড়ানো বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের শিডিউল অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়। তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই অবৈধ ভাটাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, এই অরাজকতা এখনই বন্ধ না করলে চন্দনাইশের জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ব্যবস্থা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

চাটগাঁ নিউজ/ফয়সাল/এমকেএন

Scroll to Top