চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম- ১৪ (চন্দনাইশ) আসনের বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তার প্রার্থিতা স্থগিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অস্পষ্টতা ও জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিস সূত্র আরও জানায়, জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে রবিবার বিকেল চারটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ওই সময় যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় তার বিষয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া জসীম উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে এলডিপির প্রার্থীও আপত্তি দিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন-স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার।
এছাড়া বৈধ হয়েছেন ছয় প্রার্থী। তারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচ এম ইলিয়াছ।
এই আসনে মোট ২১ প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নয় জন মনোনয়ন জমা দেন।
জসিম উদ্দীন বিএনপির হয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন জসিম উদ্দীন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পদ্মা ব্যাংকের ঋণখেলাপির এক মামলায় চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তারও আগে গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির মামলায় জসিম ও তার স্ত্রীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
এই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আনতে জসিম উদ্দিন হাইকোর্টে যান। ঋণের ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন জানিয়ে সেখানে তিনি জাল পে-অর্ডারের ফটোকপি দেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জামিন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তার জামিন বাতিল করে হাইকোর্ট।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন







