চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ, শ্রমিক-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন তপন দত্ত, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এসকে খোদা তোতন, কাজী আনোয়ারুল হক, খোরশেদুল ইসলাম, রবিউল হক শিমুল, হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং শ্রমিকনেতা আব্দুর রউফ লিটনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এটি শুধু অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও নতুন প্রস্তাবনায় এনসিটি, সিসিটি, জিসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অপারেশন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
স্কপ নেতারা বলেন, দেশের নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে গড়ে ওঠা টার্মিনালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় দক্ষতায় পরিচালিত হচ্ছে। তাই বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। এখানে নৌবাহিনীর স্থাপনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বিমানবন্দর থাকায় বিষয়টি শুধু ব্যবসা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদেশি করপোরেশনের হাতে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব গেলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও শ্রমিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এসময় তারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে না দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





