চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী নতুন জাহাজের আগমন

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, ঠিক সেই সময়েও চট্টগ্রাম বন্দরে অব্যাহত রয়েছে তেলবাহী জাহাজের আগমন।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে বন্দরের পথে রয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘পিভিটি সোলানা’, যা দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

জাহাজটির মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ডলফিন জেটিতে বার্থিং করার পরিকল্পনা আছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার পিভিটি সোলানা নামের জাহাজটি ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে আসবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ ভিড়লেও পেট্রল পাম্পগুলোর সামনে কমছে না যানবাহনের চাপ। কোনও কোনও পেট্রোল পাম্পে দিনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা মিলছে জ্বালানি। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে ‘অকটেন’। নগরী ঘুরে দেখা গেছে, যেসব পেট্রোল পাম্প কিংবা দোকানে তেল দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে, মোটরসাইকেলের লাইন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের কোনও সংকট নেই। তবে অকটেনের সংকট আছে। বর্তমানে পেট্রল পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী অকটেন মিলছে না। তেল নিয়ে সংকট শুরুর পর অকটেনসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়েছে। তবে সরবরাহ আগের মতোই আছে।’

এদিকে, চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের অভিযানে এর সত্যতাও মিলেছে। জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে করিম স্টোর নামে একটি দোকানে ১২০ টাকার অকটেন ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগে ইতোমধ্যে অভিযানও পরিচালনা করেছে প্রশাসন। তারপরও বেশি দামে তেল বিক্রি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসন বলছে, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে চলবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে সব কয়টি জাহাজ ইতোমধ্যে জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি আসছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। সেটি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করুন। কেউ অতিরিক্ত মজুত করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: বাংলা টিব্রিউন

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top