চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নগর ও জেলা মিলিয়ে মোট ৬৫৫টি কেন্দ্রকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কারিগরি কারণে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নগরে ৬০৭ কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, নগরের চারটি সংসদীয় আসন ও হাটহাজারীর অংশ নিয়ে ১৬টি থানার অধীনে মোট ৬০৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে খুলশী থানায় সর্বাধিক ৪৪টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যেখানে মোট কেন্দ্র রয়েছে ৪৭টি। আকবর শাহ থানার অধীনে থাকা ২৩টি কেন্দ্রের সবকটিই অতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বন্দর থানায় কোনো কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
এ ছাড়া কোতোয়ালী থানায় ৫২টির মধ্যে ৩৮টি, সদরঘাটে ২৩টির মধ্যে ১৫টি, চকবাজারে ১৬টির মধ্যে ৪টি, বাকলিয়ায় ৩৯টির মধ্যে ১৩টি, চান্দগাঁওয়ে ৫৬টির মধ্যে ২৭টি, পাঁচলাইশে ৩২টির মধ্যে ১৯টি, বায়েজিদ বোস্তামীতে ৫৬টির মধ্যে ১৮টি, ডবলমুরিংয়ে ৪৮টির মধ্যে ১৮টি, হালিশহরে ৪২টির মধ্যে ৩২টি, পাহাড়তলীতে ২৮টির মধ্যে ২০টি, ইপিজেডে ৩১টির মধ্যে ১৩টি, পতেঙ্গায় ২৫টির মধ্যে ৭টি এবং কর্ণফুলীতে ৪৭টির মধ্যে ১৯টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সিএমপির ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণ উপলক্ষে সব কেন্দ্রকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে যেগুলোকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলায় ১ হাজার ৩৫৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীনে থাকা ১ হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় সর্বোচ্চ ৬৮টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়া সীতাকুণ্ডে ৪৮টি, চন্দনাইশে ৪২টি, বাঁশখালীতে ৪১টি, হাটহাজারীতে ৩০টি, বোয়ালখালীতে ২৫টি, পটিয়ায় ২৪টি, সন্দ্বীপে ২৪টি, রাউজানে ২১টি, আনোয়ারায় ১৩টি, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় ৬টি এবং ভূজপুরে ৩টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গুরুত্বের ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও মোবাইল টিম নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে চারজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় থাকবেন একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য, একজন সশস্ত্র সহকারী সেকশন কমান্ডার, লাঠিসহ চারজন নারী আনসার ও ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য।
এ ছাড়া র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন, সশস্ত্র বাহিনী এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে মোতায়েনকৃত সদস্যসংখ্যা সমন্বয় করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীও ছয় দিন দায়িত্ব পালন করবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





