চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম’।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে কাজ করছে। এতে সমিতির দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় তাদের প্রার্থীদের নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেক প্রার্থীকে কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া নির্বাচন আয়োজন না করে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন পরিষদের নেতারা। এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাদের প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে হয়রানি করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বর্জনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
একইসঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নতুন কমিশন গঠন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





