চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে বড় অংশই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৭১ জন জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৭ শতাংশ নির্ধারিত ভোটের সীমা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছেরও মাঠে থাকায় জোটের ভেতরে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের ডা. আবু নাছের ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান জামানত রক্ষা করলেও এনসিপির আরিফ ছাড়াও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম জামানত হারান।
একইভাবে চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম এবং এলডিপির এম এয়াকুব আলীও জামানত রক্ষা করতে পারেননি। এছাড়া সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদও জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক–অষ্টমাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জমা রাখা ৫০ হাজার টাকা ফেরত পান না এসব প্রার্থী।
বিভিন্ন আসনে জামানত হারানোর চিত্র
চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ১২০ ভোটের মধ্যে পাঁচ প্রার্থী জামানত হারান। তারা হলেন—জেএসডির এ কে এম আবু ইউছুপ, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিখার বুলবুল চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন।
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ও জামায়াতের নুরুল আমিন ছাড়া স্বতন্ত্র আহমদ কবির, জিন্নাত আকতার, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান এবং সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ এবং লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া) আসনে জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈদ উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী এবং গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারূপ জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–১০ (খুলশী–পাহাড়তলী–হালিশহর) আসনে সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আরমান আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী এবং লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে জাতীয় পার্টির আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের, বাসদের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম রাহী, মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ জামানত হারান।
চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক) আসনে ফলাফল বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





