চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজকে সবসময় একত্রিত হয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চিটাগাং ক্লাবে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, মহাসড়কে ওজন স্কেলের সমস্যা নিয়ে আমাদের কিছু সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। উনারা আমাকে বললেন, আরও ১৫টির মতো বোধহয় স্কেল আছে। বিষয়টি যেহেতু আমি সঠিক জানি না। রোববার ইনশাআল্লাহ এটি নিয়ে কথা বলবো এবং যা হবে যেন সমতার ভিত্তিতে হয়। যদি আমার এখান থেকে ১৩ টন থাকে, পুরো বাংলাদেশেই যেন ১৩ টন হয়। সেটার ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় ব্যবসায়ী বান্ধব সরকার। সবসময় ব্যবসায়ীদের কল্যাণ চিন্তা করে। বিএনপি সবসময় চিন্তা করে কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়। এজন্য আপনারা দেখেছেন, যতগুলো পদক্ষেপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিচ্ছে প্রতিটি ব্যবসায়ী বান্ধব। ব্যবসায়ী সমাজ ও অর্থনীতিকে যেন সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে সেই ধরনের পদক্ষেপই সরকার নিচ্ছেন। ১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, কিছু দিন আগে একটি নিউজ আমরা দেখলাম পত্রিকায় অত্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ এবং একজন সম্মানিত চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীকে বিনা কারণে, খুবই ছোট্ট একটা অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হলো। পরিতাপের বিষয় হলো এটা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ থেকে কোনো ধরনের এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হয়নি। যেটা আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, উনি আমাদের সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, সম্মানিত, চট্টগ্রামের অন্যতম প্রথিতযশা ব্যবসায়ী। আমরা রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিভক্তি আছে, থাকতে পারে। আমরা একেকজন একেক মতাদর্শ বিশ্বাস করি। এটা থাকতে পারে। কিন্তু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ আমার ধারণা সবসময় একত্রিত হয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। আমি আশা করব এবং আহ্বান জানাব, আপনারা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ সমন্বিতভাবে করবেন। যাতে সকলে চট্টগ্রামকে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সিরিয়াসলি নিতে বাধ্য হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাতুনগঞ্জ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এবং স্বনামধন্য ট্রেডিং সেন্টার। এটি কমার্শিয়াল হেরিটেজের মতো। খাতুনগঞ্জ এবং খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের হৃদয়, হৃদস্পন্দনের মতো। এখান থেকেই যেকোনো ট্রেডিং চলছে। এই ব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে এ এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন। অনেকে পারিবারিকভাবে করে আসছেন। কোনোভাবেই আমাদের এ ঐতিহ্য ম্লান হতে দেওয়া যাবে না। এ ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে যা যা করা দরকার ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধিরা অবশ্যই আপনাদের পাশে আছি, সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। আপনাদের পরামর্শের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাব। আসলেই যাতে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বা কমার্শিয়াল ক্যাপিটাল হিসেবে আমরা কার্যকর করতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান ও এনামুল হক।
বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী, বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর পারভেজ, আহমদ রশিদ আমু প্রমুখ।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





