নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। যারা সবাই মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত বলে জানা গেছে। যদিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও তাদের পাসপোর্ট সূত্রে নিহতদের বাড়ি চকরিয়া বলে প্রচার হয়েছিল।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মদিনা থেকে জেয়ারত শেষে জেদ্দা যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যেখানে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ৭ জনের। গুরুতর আহত হয় আরো ৬ জন। পরবর্তীতে শনিবার রাতে মদিনা অঞ্চলের আল-হিমনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের তথ্যমতে, ঘটনার সময় রাত দুইটার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনটি পরিবারের ১৩ জন সদস্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রথমে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হন।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন— আল আবীর কোল্ড স্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তার দুই ছেলে ইয়াছের ও ইয়াজের এবং দুই মেয়ে বুশরাহ ও ইশরাহ। ওই প্রতিষ্ঠানের ফর্কলিফট চালক মোহাম্মদ ইলিয়াসের স্ত্রী মুন্নী। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন সানজিদা আক্তার ও তার দুই মাস বয়সী কন্যা সন্তান।
এদিকে চকরিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিরা কেউ চকরিয়ার বাসিন্দা নন। তারা বাংলাদেশি পাসপোর্টে চকরিয়া উল্লেখ করলেও বস্তুত অনেকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান নামের ওই ব্যক্তি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রথমে পাকিস্থান এবং সেখান থেকে সৌদি আরবে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সপরিবারে সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন। নব্বই দশকের পর থেকে তিনি বা তার পরিবার বাংলাদেশে আসেনি।
ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। এছাড়া নিহতদের পারিবারিক কোন তথ্যও জানাতে পারেনি চকরিয়া উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে নিহতরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ার কারণে বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিজনরা পরিচয় নিশ্চিত করছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, জিয়াউর রহমান প্রথমে সৌদি আরব গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে ধীরে ধীরে তিনি তার পরিবার ও আত্বীয় স্বজনদের একাংশ সেখানে নিয়ে যান। তাদের ধারণা- জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার সৌদি আরবের নাগরিকত্ব নিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে নিহতদের বাড়ি চকরিয়ায় জানার পর থেকে স্থানীয়ভাবে অনেক খোঁজ-খবর নিয়েছি। স্থানীয় কেউ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা দুতাবাস থেকে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, সৌদি আরবে আট বাংলাদেশি নিহতের খবর পেয়েছি। কিন্তু তারা চকরিয়ার বাসিন্দা কি না এখনও নিশ্চিত হতে পরিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






