গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের ৬৮ ডেকচি গায়েব, আ’লীগকে দায়ী করলেন শাহাদাত

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের ৬৮টি ডেকচি চুরির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন ও তার অনুসারীদের দায়ী করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে মাজারের সম্পদ আত্মসাতের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন চসিক প্রশাসক।

রোববার (৮ নভেম্বর) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

মাজার পরিদর্শনের সময় প্রশাসক মাজার ও এতিমখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম গণনা করেন। ডেকচি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। এ সময় বর্তমান কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রস্তুত করা হিসাব অনুযায়ী ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি ডেকচি মজুত পান।

গণমাধ্যমকর্মীদের শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত মাজার কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব থেকে দুই দফায় সাড়ে সাত লাখ টাকা, দোকানের অগ্রিম বাবদ এক কোটি ২০ লাখ টাকা, ৬৮টি ডেকচি, কয়েকটি এসি, মাজারের আঙিনার বেশ কয়েকটি বড় গাছ কেটে ফেলা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আবু তাহের নামে যে মোতোয়াল্লি মাজারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তিনিও আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকেও মাজারের অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের জন্য দায়ী করেন চসিক প্রশাসক। তার অভিযোগ, মেগা প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগের লোকজন সারা দেশে লুটপাট করেছে। মাজারও এ থেকে বাদ পড়েনি।

এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) এ ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। মেয়র ও তার অনুসারীদের দায়ী করে তিনি লেখেন, হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের শত বছরের ঐতিহ্যের তামার ৪০টি ডেকচি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন দখলকারী বিএনপি নেতারা। মাজার কমিটিকে ফ্যাসিস্ট ঘোষণা দিয়ে বর্তমান সিটি প্রশাসক মাজার কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিযুক্ত মোতোয়াল্লি আবু তাহেরের কার্যক্রম স্থগিত করে চলতি বছরের ১৩ জুন তিন বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়। ওই কমিটিতে পদাধিকারবলে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া মোতোয়াল্লি বর্তমান কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ কারণে চট্টগ্রাম ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় মাজারে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের হিসাব তৈরি করা হয়। ওই হিসাবপত্রে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানিয়েছে বর্তমান কমিটি।

মাজারের সম্পদ আত্মসাতের তথ্য গোপন করতে আগের কমিটি হিসাব-নিকাশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেছে বর্তমান কমিটি।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top