চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ‘গণভোট’— উভয়ই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন জানিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোট চাওয়ার পথে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন (পিসিএ), আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।
ইইএএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব চুক্তি (পিসিএ) চূড়ান্ত করার আলোচনা শিগগিরই শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছর পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজনৈতিক সংস্কার ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন পাম্পালোনি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের এই পরিবর্তনপর্বকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, পিসিএ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি গত ১৭ মাস ধরে অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পিসিএকে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।
পাম্পালোনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, যার প্রতিফলন হিসেবে আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চ পর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাম্পালোনি বলেন, সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং এটি দুই পক্ষের মধ্যে সম্পৃক্ততার একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফি সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন







