খানজাহান আলী দিঘির সেই কুমির এখন কক্সবাজারে

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া মাদি কুমিরটি এখন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রয়েছে। গত ১৩ আগস্ট কুমিরটিকে এই সাফারি পার্কে নেওয়া হয়। পার্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে আনার পর থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করেনি কুমিরটি।

গত ১ জুন খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় ওই কুমির। এতে শিশুটির মৃত্যু হলে জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন রাতে কুমিরটি দিঘি থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। ১ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ কুমিরটি খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে দুই মাসের বেশি সময় রাখার পর কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে।

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কুমিরটির ওজন ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি হতে পারে। দৈর্ঘ্য সাত থেকে আট ফুট। কুমিরটি খাবার খাচ্ছে না। তবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে কুমিরটি ভালোভাবেই মানিয়ে নিচ্ছে। তার চলাফেরা, রোদ পোহানো, সাঁতার কাটাসহ স্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেছে।

খাবার গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, কুমির ঠান্ডা রক্তের প্রাণী। প্রয়োজনে নিজের শরীরে জমে থাকা চর্বি থেকেও শক্তি পায়। একটি কুমির খাবার ছাড়াই পাঁচ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধারের পর খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার সময়ও কুমিরটি খাবার খায়নি। খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, খাবার না খেলেও কুমিরটি পুরোপুরি সুস্থ ছিল। হয়তো দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অপরিচিত ও বন্দি পরিবেশে থাকায় কুমিরটি এখানে খাবার গ্রহণ করেনি।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top