কালুরঘাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একটি জাতি তার ইতিহাস ভুলে গেলে সেই জাতির অস্তিত্ব দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে এই দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনাও চলছে, যাতে দর্শনার্থীরা সহজেই পুরো ইতিহাস জানতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার চূড়ান্ত অর্জন সম্ভব হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যার পর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি এনে দেয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

তিনি জানান, কালুরঘাটে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ, জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনের পর জাদুঘরে গিয়ে পুরো প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই দিকই যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে কাজ করছে সরকার।

পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top