রাঙামাটি প্রতিনিধি: ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ ব্যবহার করে রাঙামাটিতে আনা হচ্ছিল শুল্কবিহীন অবৈধ সিগারেট। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী উপজেলা বরকল ও জুরাছড়ির দুর্গম এলাকা দিয়ে ভারত থেকে পাচার করে আনা এসব সিগারেট দেশীয় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রাঙামাটি শহরে এনে সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
মূলত সরকারি বিভিন্ন দিবস ও বন্ধের দিনগুলোকে বেছে নিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চক্র।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুভলং আর্মি ক্যাম্পের বিপরীত পাশে কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে নৌকাযোগে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল চোরাচালানকারীর কাছ থেকে অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামাল শুভলং ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য ২৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
উদ্ধার হওয়া সিগারেটের মধ্যে রয়েছে— ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৫০০ প্যাকেট অরিস, ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার প্যাকেট পেট্টন, ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪৬০ প্যাকেট ইএসএসই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্তবর্তী ও জলপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব চোরাচালান কার্যক্রমের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অপরাধচক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের মতো বিস্তৃত জলপথ চোরাচালানকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তুলনামূলক সহজ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে জলপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাঙামাটির বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবৈধ পণ্য পরিবহন ও মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সন্দেহজনক কোনো নৌযান, পণ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
চাটগাঁ নিউজ/আলমগীর/এমকেএন





