রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকবাহী নৌ-যানে একাধিক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্রণোদিতভাবে (সুয়োমোটো) বিষয়টি আমলে নিয়েছে রাঙামাটির আমলী আদালত।
গত ২৫ ডিসেম্বরের একটি দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৯ জন পর্যটক অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নৌযানগুলোর নিরাপত্তাহীনতা, লাইফ জ্যাকেটের অভাব, অবৈধ নৌযান চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাঙামাটির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আলম চৌধুরী রাঙামাটির নৌ-পুলিশকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রাঙামাটির আমলী আদালত (এক) এর জিআরও এএসআই তাজ উদ্দিন জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নৌ-পুলিশকে তদন্তের মাধ্যমে নৌকার মালিক ও চালকের অবহেলা, নৌযানের বৈধ নিবন্ধন, লাইফ জ্যাকেট এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের উপস্থিতি, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স এবং কাপ্তাই হ্রদে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যা যাচাই করতে হবে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে নিবন্ধনহীন ও নিয়মবহির্ভূত প্রায় দেড় শতাধিক নৌযান চলাচল করছে। এসব নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট থাকে না এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ছাদে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে সুবলং পর্যটনকেন্দ্র থেকে রাঙামাটি শহরের দিকে ফেরার পথে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ১৯ জন পর্যটক ছিল, যার মধ্যে চারজন শিশু। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চালকের অদক্ষতা ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ এবং এখানে প্রতি বছর লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করেন। তবে তাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নৌযান মালিক এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। আদালতের মতে, এই অবহেলা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন রক্ষার অধিকারের পরিপন্থী এবং এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধ্যাদেশ ১৯৭৬, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন ২০১০ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র সতর্ক করা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কঠোর আইনের প্রয়োগ ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা। নাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে।
চাটগাঁ নিউজ/আলমগীর/এমকেএন







